দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ববাজারে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত দুটি কারণে আজ দাম কমেছে।
বিষয়টি হলো, ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো আগস্ট থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ তেলের দাম কমেছে।
সোমবার সকালে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪২ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকায় শুক্রবার ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তিমূল্য নির্ধারিত হয়নি।
গত সপ্তাহজুড়ে এই দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম নিম্নমুখী ছিল। এ সময় বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অগ্রগতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের গতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রোববার ওপেক, রাশিয়াসহ মিত্রদেশগুলো আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাইয়েও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে এ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান ওপেক সদস্যদের উৎপাদন ও রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি মিলেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ছেড়ে যাওয়ার পর এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্ধারিত কোটাও বাস্তবে পূরণ হচ্ছে না। তাই আপাতত এসব লক্ষ্যমাত্রার খুব বেশি গুরুত্ব নেই।
সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ১ মে থেকে ওপেক ছাড়ে। এদিকে ইরান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সরবরাহ পুনরায় চালু করতে শুরু করেছে উপসাগরীয় সদস্যদেশগুলো। একই সঙ্গে তারা রপ্তানিও বাড়াচ্ছে।
রয়টার্সের জরিপে দেখা গেছে, জুনে ওপেকের তেল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ঘটনা এটি।
তথ্য অনুযায়ী, জুনে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়ে ১ কোটি ব্যারেল অতিক্রম করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই রপ্তানি এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
এদিকে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাইয়েও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
কে